ধর্মকথা

ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ পড়ার নিয়ম ও দোয়া

নামাজ

নবীজি বলেছিলেন, ফজরের দুই রাকআত নামাজ পৃথিবী ও তার মধ্যে অবস্থিত সকল বস্তু অপেক্ষা উত্তম (মুসলিম ৭২৫ নং, তিরমিযী)। তাহলে বুঝতেই পারতেছেন ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ পড়ার নিয়ম অনুযায়ী নামাজ পড়াটা কত গুরুত্বপূর্ণ। মূলত ফজরের নামাজ পড়ে আল্লাহর আনুগত্যের মধ্যে দিয়েই আমাদের প্রত্যেকটি দিন শুরু করা উচিত।

ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ পড়ার নিয়ম

বিভিন্ন হাদিস মোতাবেক ফজরের নামাজকে অধিক গুরুত্বের সাথে দেখা হয়েছে। ফজরের সময় ঘুমে মগ্ন না থেকে আমাদের ‍উচিত ফজরের নামাজ আদায় করা। ফজরের দুই রাকআত সুন্নত নামাজ এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় রাকআতে কিছুটা পার্থক্য থাকার কারণে আমরা আগে জানবো প্রথম রাকআত নামাজ কীভাবে পড়বেন। এবং পরে জানবো দ্বিতীয় রাকআত নামাজ কীভাবে আদায় করতে হবে।

প্রথম রাকআত নামাজ পড়ার নিয়ম

অন্যান্য সকল নামাজের মতো অজু করে, পাক ও পবিত্র হয়ে নামাজের জন্য জায়নামাজে দাঁড়াতে হবে। তারপর ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজের নিয়ত করতে হবে। নিয়ত মুখেই বলতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। নিয়ত অর্থ ইচ্ছা করা। মনে মনে নিয়ত করলেই হবে।

ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ পড়ার নিয়ম | তাকবীরে তাহরিমা

নিয়ত করা হয়ে গেলে তাকবীরে তাহরিমা (আল্লাহু আকবার) বলে দুই হাত সোজা করে আঙুলগুলো কিবলামুখি করে হাত, কাঁধ পর্যন্ত উঠাতে হবে। উঠানোর পরে বাম হাতের উপর ডান হাত কনুই বরাবর রেখে হাত দুটো নাভির নিচে বাঁধতে হবে। উল্লেখ্য যে, নারীদের নামাজ আদায় করার পদ্ধতি ভিন্ন। তাই নারীদের নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম ছবি সহ দেখে আসতে পারেন।

হাত দুটো বাধা হলে সানা পড়তে হবে।

ছানা: সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআ-লা জাদ্দুকা, ওয়ালা ইলাহা গায়রুক।
অর্থ: হে আল্লাহ্! আমি তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, তুমি প্রশংসাময়, তোমার মর্যাদা অতি উচ্ছে, ‍এবং তুমি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই।

ছানা পড়া শেষ হলে সুরা ফাতিহা পড়তে হবে। সুরা ফাতিহার শেষে নিম্নস্বরে আমিন বলতে হবে। সুরা ফাতিহা শেষ হলে সুরা ফাতিহার সাথে মিলিয়ে নামাজে পড়ার ছোট সুরা সমূহ পড়তে হবে। সুরাগুলো যেন কমপক্ষে তিন আয়াত পরিমাণ হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

রুকু

সুরা ফাতিহার সাথে অন্য একটি সূরা মিলিয়ে পড়া হয়ে গেলে “আল্লাহু আকবার” বলে রুকুতে যেতে হবে। রুকুতে যাওয়ার নিয়ম হচ্ছে মাথা হেলিয়ে নিতম্বের সমান্তরালে রেখে আঙুলগুলো দিয়ে হাঁটু আঁকড়ে ধরতে হবে। রুকুতে রুকুর দোয়া পড়তে হবে। রুকুর দোয়া বেজোড় সংখ্যায়, ৩, ৫ ও ৭ বার পর্যন্ত পড়া যায়।

রুকুর দোয়া: সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম
অর্থ: আমি আমার রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।

রুকুর দোয়া পড়া হয়ে গেলে রুকু থেকে উঠার দোয়া পড়তে হবে।

রুকু থেকে উঠার দোয়া: সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ
অর্থ: আল্লাহ তায়ালা তার প্রশংসাকারীর প্রশংসা শোনেন।

রুকু থেকে উঠে সোজা হয়ে দাড়িয়ে আরও একটি দোয়া পড়তে হবে সেটি হচ্ছে-

রুকু থেকে সোজা হওয়ার পরে দোয়া: রাব্বানা লাকাল হামদ
অর্থ: হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা শুধু তোমারই।

এভাবে রুকু শেষ করে “আল্লাহু আকবার” বলে সিজদা দিতে হবে।

ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ পড়ার নিয়ম | সিজদা দেওয়া

সিজদাতে গিয়ে ক্রমান্বয়ে হাঁটু, উভয় হাত ও কপাল মাটিতে রাখতে হবে। হাতের আঙুলগুলোকে কিবলামুখী করে রেখে সিজদার দোয়া পড়তে হবে। সিজদার দোয়া বেজোড় সংখ্যায়, ৩, ৫ ও ৭ বার পর্যন্ত পড়া যায়।

সিজদার দোয়া: সুবহানা রাব্বিয়াল আলা
অর্থ: আমি আমার মহান রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

দোয়া পড়া হয়ে গেলে প্রথমে মাথা উঠাতে হবে। তারপর হাতদুটো রানের ‍উপর রেখে স্থিরভাবে বসে আবার “আল্লাহু আকবার” বলে দ্বিতীয় সিজদা দিতে হবে। আবারও সেই সিজদার দোয়া পড়তে হবে। “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা” এই দোয়াটি। সিজদার দোয়া পড়া হয়ে গেলে “আল্লাহু আকবার” বলে সোজা দাঁড়িয়ে হাত বাধতে হবে।

এভাবে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ পড়ার নিয়ম অনুযায়ী প্রথম রাকআত পড়া হলো। এখন আমরা দেখবো দ্বিতীয় রাকআত নামাজ পড়ার নিয়ম।

দ্বিতীয় রাকআত নামাজ পড়ার নিয়ম

প্রথম রাকআত নামাজ শেষে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পরে প্রথম রাকআত অনুযায়ী, সকল সুরা পড়তে হবে এবং রুকু ও সিজদা দিতে হবে। এভাবে যখন দ্বিতীয় সিজদা দেওয়া হবে তখন সোজা হয়ে না দাঁড়িয়ে স্থিরতার সঙ্গে হাতদুটো রানের উপর রেখে বসতে হবে।

তখন খেয়াল রাখতে হবে বাম পা যেন মাটিতে বিছানো থাকে এবং ডান পা যেন খাড়া করা থাকে। এবং ডান পায়ের আঙুলগুলো থাকবে কিবলামুখী। এভাবে বসা হয়ে গেলে ক্রমান্বয়ে, তাশাহহুদ, দরুদ শরীফ ও দোয়া মাসূরা পড়তে হবে। উক্ত সুরাগুলো পড়া হয়ে গেলে প্রথমে ডানে মাথা ফেরাতে হবে। এবং তারপরে বাঁয়ে মাথা ফেরাতে হবে। ডানে ও বাঁয়ে মাথা ফেরানোর সময় “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ” বলতে হবে। সালাম ফেরানোর সময় পাশে বসে থাকা ব্যক্তি ও ফেরেশতাদের কথা মনে করতে হবে।

শেষ কথা

মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ পড়বে, সে ব্যক্তি সারাটাদিন আল্লাহর জিম্মায় থাকবে (মুসলিম, হাদিস : ৬৫৭)। শুধু এগুলোই না ফজরের নামাজ সম্পর্কিত আরও অনেক হাদিস রয়েছে। সব হাদিসেই ফজরের নামাজকে খুব গুরুত্বের সহিত দেখা হয়েছে। ফজরের সুন্নত ও ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ম একই। তাই আমাদের উচিত ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাজ পড়ার নিয়ম অনুযায়ী ফজরের নামাজ আদায় করা।

এই বিভাগ থেকে আরো পড়ুন

সঠিক নিয়মে জানাজার নামাজ কিভাবে পড়বেন জেনে নিন

বাংলা অর্থসহ আয়াতুল কুরসী ও এর ফজিলতসমূহ

হাদিস অনুযায়ী যাকাত ফরজ হওয়ার ১০টি শর্ত

লেখাপড়া